যুক্তরাজ্যজুড়ে ভয়াবহ শীতঝড় ও টানা তুষারপাতের কারণে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। মেট অফিসের রেড ও অ্যাম্বার সতর্কতার মধ্যেই বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া তুষারঝড় অব্যাহত রয়েছে। শক্তিশালী ঝড়ের সঙ্গে ভারী তুষারপাতের ফলে সড়ক, রেলপথ ও আকাশপথে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মিডল্যান্ডস, ওয়েলস, উত্তর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়কে ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বরফ জমেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে কোথাও কোথাও বরফের স্তর ৩০ সেন্টিমিটার ছাড়িয়েছে। শহরাঞ্চলেও প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পুরু বরফ জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লিডস, শেফিল্ড ও কার্ডিফের অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
রাতে বিভিন্ন শহরে গাড়ি আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বরফে পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ একাধিক রুট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, অধিকাংশ রুটে ট্রেন বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে। বাস চলাচলও অনেক এলাকায় সম্পূর্ণ বন্ধ। বার্মিংহাম বিমানবন্দর রানওয়ে বন্ধ রাখায় একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। লন্ডন লুটন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের যাত্রার আগে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড বাতাস ও বরফের চাপে গাছ উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলগুলো বরফ অপসারণ ও গ্রিটিং কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রধান সড়ক, হাসপাতালগামী রুট ও জরুরি পরিষেবার পথ পরিষ্কার রাখতে রাতভর স্নো-প্লাউ ও গ্রিটিং লরি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও একা বসবাসকারীদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ঘোষণা করেছে। অনেক স্কুল অভিভাবকদের টেক্সট মেসেজ ও ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকবে। মেট অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নতুন করে তুষারপাত ও তীব্র বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)