যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের ফোন জব্দ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০৬
যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশকারী অভিবাসীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করার নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কাউকে গ্রেপ্তার না করেই তার ফোন জব্দ করা যাবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের পেছনে থাকা পাচারচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে।
বিবিসি নিউজ বলছে, নতুন আইন অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা অভিবাসীদের কোট খুলে ফোন খুঁজে নিতে পারবেন, এমনকি মুখের ভেতরেও সিমকার্ড আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে পারবেন।
প্রথম দফায় এই আইন কার্যকর হচ্ছে কেন্টের ম্যানস্টন অভিবাসন কেন্দ্রে। সেখানে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে, যাতে ফোন থেকে তথ্য ডাউনলোড করে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে ব্যবহার করা যায়।
জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, ফোন থেকে পাওয়া তথ্য পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুততর করতে সাহায্য করবে।
তবে এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শরণার্থী অধিকার সংগঠনগুলো। রিফিউজি কাউন্সিল বলেছে, ফোন অভিবাসীদের জন্য একটি জীবনরক্ষাকারী মাধ্যম। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার একমাত্র উপায়। তাই আইন প্রয়োগে সংবেদনশীলতা ও মানবিকতা বজায় রাখা জরুরি।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ জানিয়েছেন, ফোন জব্দের পর তা ফেরত দেওয়া হতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে ফোনে কী পাওয়া যায় তার ওপর। তিনি বলেন, “যদি ফোনে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য থাকে, তাহলে তা জব্দ করাই যুক্তিযুক্ত। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা সহানুভূতি হারাচ্ছি।”
নতুন আইনে আরো বলা হয়েছে, যারা অভিবাসীদের জন্য নৌকার ইঞ্জিন মজুত বা সরবরাহ করবে, তাদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া পাচারকারীরা যদি ছোট নৌকা চালানোর রুট বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার তথ্য অনলাইনে খোঁজে, তাহলে তাদের ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে ৪১,৪৭২ জন অভিবাসী, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার বেশি।
সরকার জানিয়েছে, পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ৪ হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)