আটলান্টিক মহাসাগরে নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা উল্টে যায়। এতে অন্তত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৯৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী নৌকায় দুই শতাধিক মানুষ ছিলেন, ফলে শতাধিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নর্থ ব্যাংক অঞ্চলের জিন্যাক গ্রামের কাছাকাছি ঘটে। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর তিনটি স্পিডবোট, একটি উপকূলীয় টহল জাহাজ এবং স্থানীয় একটি মাছ ধরার নৌকা অংশ নেয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নৌকায় থাকা যাত্রীদের একটি অংশ গাম্বিয়ার নাগরিক নয়। তাদের জাতীয়তা যাচাই চলছে। একই সঙ্গে সরকার অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে গাম্বিয়া সরকার।
সাব-সাহারান আফ্রিকার বহু মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তারা সাধারণত আটলান্টিক মহাসাগরীয় বিপজ্জনক রুট পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যেতে চান। প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত।
সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও মরোক্কো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা গাম্বিয়া ও গিনির মতো নতুন উপকূল বেছে নিচ্ছেন। গত বছরের আগস্টেও গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকাডুবিতে ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
স্প্যানিশ সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। এর মধ্যে আটলান্টিক রুটেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৯০৬ জন।
logo-1-1740906910.png)