যুক্তরাজ্যের হেরেফোর্ডশায়ারে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অভিযানে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ হোম অফিস নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় দুটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের আটক করা হয়।
১১ ডিসেম্বর হেরেফোর্ডের সেন্ট ওউন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘জলসাগর’ এবং ‘টেস্ট অব রাজ’ নামের রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা। জলসাগর রেস্তোরাঁ থেকে একজন বাংলাদেশি পুরুষকে অভিবাসন সম্পর্কিত অপরাধে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশের টেস্ট অব রাজ রেস্তোরাঁ থেকে আরো চার বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, অন্য দুজন জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন।
এই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নথি সিভিল পেনাল্টি কমপ্লায়েন্স টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য দেয়নি।
ব্রিটিশ হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার ফলে সৎ নিয়োগদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং স্থানীয় মজুরি কমে যায়। এতে সংগঠিত অভিবাসন অপরাধও বাড়ে। তিনি জানান, লেবার পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বেড়েছে এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বছর এই পদক্ষেপ আরো জোরদার করা হবে।
২০২৫ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৪০ হাজার ৬৫২ জন অভিবাসী, যা ২০২৪ সালের মোট আগমনকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে অভিবাসন এখন ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবার পার্টির সরকার অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনের চাপের মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে সংস্কার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নিতে অসহযোগিতার কারণে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)