যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা: ইউরোপীয় নেতাদের কড়া সমালোচনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের দুই অনলাইন প্রচারকর্মীসহ মোট পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ব্রিটিশ ও ফরাসি শীর্ষ নেতৃত্ব।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ এমপি চি অনভুরাহ বলেন, “কারো বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়া মানেই তাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটি সরাসরি বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত।” তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল জগতে বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল প্রচারের জন্য ইমরান আহমেদের মতো বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভীতি প্রদর্শন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ব্যক্তিরা মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে (যেমন এক্স, মেটা) চাপ দিচ্ছেন, যাতে তারা কিছু পোস্ট বা মতামত সরাতে বাধ্য হয়। মার্কো রুবিওর মতে, এই ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো মানুষের মত প্রকাশে বাধা দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
ভিসা নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট (সিসিডিএইচ) প্রধান ও লেবার পার্টির সাবেক উপদেষ্টা ইমরান আহমেদ, গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্স (জিডিআই) প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার মেলফোর্ড, ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেতোঁ, জার্মান সংস্থা হেটএইডের কর্মকর্তা আনা-লেনা ফন হোডেনবার্গএবং জোসেফিন ব্যালন।
মার্কিন প্রশাসন তাদের ‘উগ্রপন্থি অধিকারকর্মী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তবে ইউরোপীয় নেতারা এই পদক্ষেপকে সরাসরি নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্যের সরকারও জানায়, তারা বাকস্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক মুখপাত্র বলেন, “প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভিসানীতি নির্ধারণের অধিকার থাকলেও আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে মুক্ত রাখতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করি।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে। বিশেষ করে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।
logo-1-1740906910.png)