Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৬

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ছে

বিদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে জার্মানি। তবে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করছে দেশটির সরকার। বৈধ পথে অভিবাসন দ্রুততর করতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস প্রশাসন ‘ওয়ার্ক-অ্যান্ড-স্টে এজেন্সি’ নামে নতুন একটি দপ্তর চালু করছে।

সিডিইউ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে বোঝা যাচ্ছে, তারা দক্ষ শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আশ্রয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বিধি কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। রাজনৈতিক চাপ, প্রত্যাবাসনের আইনি জটিলতা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মী সংকটের কারণে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জার্মানি যোগ্য অভিবাসী চায় এবং নিজেকে একটি মুক্ত ও সহনশীল দেশ হিসেবে পরিচিত করতে চায়। যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের স্বাগত জানানো হবে। এজন্য শ্রম অভিবাসনের প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নভেম্বরের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদ ‘ওয়ার্ক-অ্যান্ড-স্টে এজেন্সি’ অনুমোদন দিয়েছে। এজেন্সিটি ওয়ার্ক পারমিট, রেসিডেন্সি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের কাজ করবে। আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত এ দপ্তরের লক্ষ্য হবে আধুনিক ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

জার্মানির স্বাস্থ্যসেবা খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মী সংকট রয়েছে। গত বছর প্রায় তিন লাখ বিদেশি কর্মী এই খাতে যোগ দিয়েছেন। গবেষকদের মতে, বিদেশি কর্মী ছাড়া এ খাতের সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়তে পারে। তবে নিয়োগকর্তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সমস্যায় পড়ছেন। নতুন এজেন্সি এসব জটিলতা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ডট। তিনি বলেছেন, যারা সমাজে একীভূত হয়েছেন এবং কাজ করছেন, তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। তবে যারা একীভূত হচ্ছেন না এবং কর্মে নিয়োজিত নন, তাদের ফেরত পাঠানো হতে পারে। তিনি আরো বলেন, সুরক্ষা সুবিধার আওতায় থাকা কোনো সিরীয় যদি নিজ দেশে ভ্রমণ করেন, তবে তা প্রমাণ করে সেখানে তার নিরাপত্তার হুমকি নেই।

শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, স্বল্প সময়ের ভ্রমণ তাদের নিজ দেশের পরিস্থিতি যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। তবে সরকার এ যুক্তি মানছে না।

সব মিলিয়ে জার্মানির অভিবাসন নীতিতে দ্বৈত কৌশল স্পষ্ট দক্ষ শ্রমিকদের জন্য সুযোগ বাড়ানো এবং শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ। চাকরি পাওয়া ও সমাজে যুক্ত হওয়াকে জার্মানিতে থাকার শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকার আশ্রয় প্রদানের চেয়ে অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে।

Logo