জার্মানিতে কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের জন্য যেতে হলে ভিসা ও বসবাসের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ‘মেক ইট ইন জার্মানি’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
ধাপ ১: যোগ্যতা যাচাই
ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিশ্চিত হতে হবে আপনি মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করছেন কিনা।
- জীবিকা নিশ্চিতকরণ: প্রমাণ দিতে হবে যে জার্মানিতে থাকার সময় আপনার খরচ চালানোর মতো অর্থ আছে। এটি হতে পারে ভবিষ্যৎ চাকরির বেতন, কোনো ব্যক্তির দেওয়া প্রতিশ্রুতি (ডিক্লারেশন অব কমিটমেন্ট) অথবা ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ।
- পরিচয় ও জাতীয়তা প্রমাণ: বৈধ পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
- নির্বাসনের ঝুঁকি নেই: আপনার প্রবেশ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় তা নিশ্চিত করা হবে।
- পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক: তৃতীয় দেশের নাগরিকদের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
এছাড়া আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী (কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ) আলাদা শর্ত থাকতে পারে।
ধাপ ২: দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট
যোগ্যতা পূরণ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া থাকে। একই সময়ে ভিসা আবেদনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
- দক্ষ কর্মীদের জন্য দ্রুত প্রক্রিয়া: যদি কোনো নিয়োগকর্তা আপনাকে দ্রুত জার্মানিতে নিতে চান, তারা জার্মানি থেকে ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
ধাপ ৩: ভিসা আবেদন
নিজ দেশের জার্মান দূতাবাসে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
- আবেদন অবশ্যই আপনার উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিলতে হবে। যেমন কাজের জন্য গেলে ওয়ার্ক ভিসা নিতে হবে।
- দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য ফি ৭৫ ইউরো। এটি ফেরতযোগ্য নয়।
- আবেদন ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- কিছু ভিসার ক্ষেত্রে জার্মান ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হতে পারে।
ধাপ ৪: জার্মানিতে প্রবেশ
ভিসা পাওয়া গেলে জার্মানিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
- জন্ম সনদ, শিক্ষাগত সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহ সনদসহ ব্যক্তিগত নথি সঙ্গে নিতে হবে।
- স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক। জার্মানিতে পৌঁছানোর প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যবীমা থাকতে হবে।
ধাপ ৫: রেসিডেন্স পারমিট
জার্মানিতে প্রবেশের পর ভিসা সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে। এর মধ্যে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি থাকার জন্য রেসিডেন্স পারমিট নিতে হবে।
- স্থানীয় ফরেনার্স অথরিটিতে যোগাযোগ করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রেসিডেন্স পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।
অতিরিক্ত তথ্য
- জার্মানিতে কাজ বা পড়াশোনার জন্য আলাদা ভিসা রয়েছে।
- ফেডারেল ফরেন অফিসের ভিসা নেভিগেটর ব্যবহার করে কোন ভিসা প্রয়োজন তা জানা যায়।
- ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি (BAMF) থেকে অভিবাসন ও সংহতি বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যায়।
জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। যোগ্যতা যাচাই, দূতাবাসে আবেদন, ভিসা ফি প্রদান, স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিতকরণ এবং রেসিডেন্স পারমিট সংগ্রহ; সবগুলো ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে জার্মানিতে কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া যায়।
logo-1-1740906910.png)