Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ডেনমার্কে শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে বিতর্ক, চাপে সরকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯

ডেনমার্কে শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে বিতর্ক, চাপে সরকার

ডেনমার্কে শিক্ষার্থী ভিসা স্কিম ঘিরে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। শত শত এশীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এই স্কিমের মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করায় অভিবাসন নীতির ফাঁকফোঁকর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন অভিবাসনমন্ত্রী রাসমুস স্টকলুন্ডকে এ বিষয়ে সংসদে জবাবদিহি করতে হবে।

ইনফো মাইগ্রেন্টস জানায়, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১৯ সালের ১৯০ জন থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪৬ জনে। বিরোধী দলগুলো এই প্রবণতাকে ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো’ বলে দাবি করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ডেনিশ পিপলস পার্টির এমপি মিকেল বিয়র্ন বলেন, “যেসব শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা উচিত।" তিনি আরো বলেন, “সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই সমস্যা আরো বাড়বে।"

বিতর্ক আরো ঘনীভূত হয় রসকিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড চেয়ারম্যান কারস্টেন টফ্ট বোসেনের পদত্যাগের মাধ্যমে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ অভিবাসন নীতি নির্ধারণ নয়”। এরপরই বোসেন পদত্যাগ করেন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা পরিবারসহ ডেনমার্কে বসবাস করতে পারেন এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পান। তবে ২০২৬ সাল থেকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী বা সঙ্গীদের আনার সুযোগ থাকবে না।

সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবনাকেও প্রভাবিত করেছে, যেখানে ইইউর বাইরে নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ডিপোর্টেশন সহজ নয়। প্রতিটি ভিসা আবেদনের আইনি মূল্যায়ন প্রয়োজন এবং জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তা ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৮ নম্বর ধারায় পারিবারিক জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

গ্রিন লেফট পার্টির এমপি সোফি লিপার্ট বলেন, “শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের মাধ্যমে সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়া উচিত নয়”। অভিবাসন মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

Logo