যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কসোভো প্রথম দেশ হিসেবে তাদের গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুরতি জানিয়েছেন, “যুক্তরাজ্যকে সাহায্য করতে চাই” এবং এ বিষয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
এই পরিকল্পনার আওতায় যেসব ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং আইনি আপিলের সব পথ শেষ, তাদের তৃতীয় দেশের ‘রিটার্ন হাব’-এ পাঠানো হবে। কুরতির ভাষায়, “আমাদের সক্ষমতা সীমিত হলেও আমরা বন্ধুত্ব ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে যুক্তরাজ্যকে সাহায্য করতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, এর বিনিময়ে কসোভো নিরাপত্তা খাতে সহায়তা চায়; যেমন- কৌশলগত চুক্তি, সরঞ্জাম বা প্রকল্পে অংশগ্রহণ। “আপনারা আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন, আমরা তা ভুলিনি,” বলেন কুরতি।
তবে কসোভো এই প্রস্তাবে সম্মত হলেও অন্যান্য বালকান দেশগুলো ভিন্ন অবস্থানে। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, “যুক্তরাজ্য এখন অভিবাসীদের ফেলে দেওয়ার জায়গা খুঁজছে। এটা ব্রেক্সিটের আগে অকল্পনীয় ছিল।” তিনি আরো বলেন, “আজকের ব্রিটেনের অনেক কথাবার্তা, যা একসময় লজ্জাজনক মনে হতো, এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।”
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট জেলজকো কোমসিচ জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণে আগ্রহী নয়। মন্টেনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাইচ বলেন, তারা রিটার্ন হাব নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে যুক্তরাজ্যকে তাদের অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে।
২২ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য পশ্চিম বলকান নেতাদের সম্মেলনের আগে এই আলোচনা সামনে আসে। ব্রিটিশ নেতা কেয়ার স্টারমার বলেন, “এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো পশ্চিম বলকান অঞ্চলের মাধ্যমে চলা অপরাধমূলক অভিবাসন পথ বন্ধ করা।” তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ড্রোন ও স্ক্যানার মোতায়েন করবে এবং যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করবে।
স্টারমার দাবি করেন, “আলবেনিয়ার সঙ্গে কাজ করে আমরা ছোট নৌকায় আগতদের সংখ্যা ৯৫% কমিয়েছি। একই কৌশল আমরা অন্যান্য বলকান দেশেও প্রয়োগ করছি।”
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শরণার্থী অধিকার সংগঠনগুলো। রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এনভার সোলোমন বলেন, “যেসব দেশে মানুষ কখনো পা রাখেনি, সেখানে তাদের পাঠানোর হুমকি ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কার্যকর রিটার্ন ব্যবস্থা হতে হবে মানবিক ও সুশৃঙ্খল।”
logo-1-1740906910.png)