ফ্রান্সে রেসিডেন্ট পারমিট ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার শর্ত আরো কঠোর হলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২০
ফ্রান্সে নাগরিকত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্ট পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়া কঠোরকরণ করা হয়েছে; ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিক্রি অনুযায়ী নাগরিকত্ব, দুই বা চার বছরের রেসিডেন্স কার্ড ও ১০ বছরের স্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিটের প্রতিটি আবেদনেই ইলেকট্রনিক এমসিকিউ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৪০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে এবং পাসের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ শতাংশ নম্বর। পরীক্ষার সময়সীমা ৪৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে ভাষাগত যোগ্যতার মানও বাড়ানো হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রার্থীদের ফরাসি ভাষায় কমপক্ষে বি২ স্তর এবং স্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট চাইলে বি১ স্তর প্রমাণ করতে হবে। পরীক্ষাগুলো শুধু অনুমোদিত কেন্দ্রে ডিজিটালি নেওয়া হবে এবং উপস্থিত প্রার্থীর পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক থাকবে। পরীক্ষায় প্রতারণা বা নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল হবে এবং একই ব্যক্তিকে পরবর্তী দুই বছর আবেদন করতে নিষিদ্ধ করা হবে।
ফরাসি সরকারের যুক্তি হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা অভিবাসীদের ফরাসি সমাজে দ্রুত ও আরো কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে; প্রার্থীদের আইন, অধিকার-কর্তব্য, ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা উচিত। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সংস্থাগুলো বলে, ভাষা ও কৌশলগত উচ্চমান অনেক নিম্ন আয়ের অভিবাসী ও শরণার্থীর জন্য বড় বাধা তৈরি করবে। বিশেষত দীর্ঘ সময় ধরে ভিন্ন ভাষা পরিবেশে সীমিত সম্পদে থাকা প্রার্থীরা দ্রুত বি১ বা বি২ স্তরে পৌঁছানোতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ভবিষ্যতে ফরাসি নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাস পেতে চান, তারা এখন থেকেই ফরাসি ভাষা শেখা, মৌলিক নাগরিক জ্ঞান অর্জন ও অনলাইনে এমসিকিউ ধরনের পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবেন। শিক্ষাব্যবস্থা, এনজিও ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কোচিং সেন্টারগুলো ইতোমধ্যে প্রাক-প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে, যাতে প্রার্থীরা নতুন মানদণ্ড পূরণে প্রস্তুত হতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)