বিদেশি শিক্ষার্থী টানতে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ছাড়ের ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অন্তত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে টিউশন ফিতে বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা পেতে আলাদা করে বৃত্তির আবেদনও করতে হচ্ছে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ভর্তি নিশ্চিত হলেই অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি কমছে।
এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সীমিত বৃত্তির পাশাপাশি সরাসরি টিউশন ফি কমানোর কৌশল নিচ্ছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ছাড় দিচ্ছে, স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ ৮ হাজার এবং স্নাতকে ৬ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত। রাসেল গ্রুপের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম আলাদা আবেদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ৩ হাজার পাউন্ড ছাড় দিচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট চীন, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স কোর্সে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড ছাড় দিচ্ছে। নটিংহ্যামের কিছু মাস্টার্স কোর্সের ফি ৩৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হওয়ায় এ ছাড় শিক্ষার্থীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের পরিচালক জুলিয়ান ওয়েস্টউড বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছোট বৃত্তির বদলে বড় পরিসরে সরাসরি ফি কমানোর দিকে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীপ্রতি আয় কমে আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়তে পারে।
দ্য ব্র্যান্ড এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিনাত ফায়াজ বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ফি কমানোর পাশাপাশি ভর্তি যোগ্যতার শর্তও শিথিল করছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।
অফিস ফর স্টুডেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পোস্টগ্র্যাজুয়েট টিউশন ফি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে; আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আরো কমলে চাপ বাড়ার আশঙ্কায় ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শিক্ষার্থীপ্রতি ৯২৫ পাউন্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী লেভি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)