কানাডা একসময় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর ভিসা নিয়ম, বাড়তি আর্থিক শর্ত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
ভারতীয় বিজনেস ম্যাগাজিন মানি কন্ট্রোলের প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যেখানে প্রায় ৯৯ হাজার ৪৩৫ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী কানাডায় প্রবেশ করেছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১৬ হাজার ১১৫ জনে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভর্তির হার প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে কঠোরতা এনেছে। স্নাতক ও ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক গ্যারান্টিড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট (GIC) দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কানাডায় জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। বাড়িভাড়া, খাদ্য ও পরিবহন খরচ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করলেও ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। চাকরির বাজারেও সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এসব দেশে তুলনামূলকভাবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ, আর্থিক শর্ত কম এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগও বেশি।
কানাডার শিক্ষা খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতের অন্যতম বড় আয়ের উৎস।
logo-1-1740906910.png)