Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানি যাওয়া সহজ হবে: রাষ্ট্রদূত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:১৮

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানি যাওয়া সহজ হবে: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেছেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। জার্মানি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য এবং ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেই সাথে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জার্মানি যাওয়াও সহজ বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ সিরিজের দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক, একাডেমিক সহযোগিতা, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্রদূত লোটজ বলেন, “আমরা এমন একটি বিশ্বে প্রবেশ করছি, যেখানে বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জার্মানি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংলাপভিত্তিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।” তিনি আরো বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। কেউ কূটনীতিক হবে, কেউ নীতিনির্ধারক, কেউ গবেষক বা উন্নয়নকর্মী। তাই নিজেদের দক্ষতা, জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শ্রম অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সুশাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে জার্মানি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও জার্মানির সম্পর্ক আরো উন্নত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প বৈচিত্র্যকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরো বাড়তে পারে।”

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জার্মান ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী একাধিকবার আবেদন করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া বা ভুল তথ্য জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়, যা সময়সাপেক্ষ। তবে তিনি আশাবাদী, অপেক্ষমাণ আবেদন কমে এলে ভবিষ্যতে ভিসা প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক রাজনীতি, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ সমাজ মেধাবী ও সম্ভাবনাময়। জাতীয় উন্নয়নে এই শক্তিকে কাজে লাগাতে গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই।”

Logo