অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো কমতে পারে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিসা আবেদন ফি বৃদ্ধি, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা দেশটিকে পড়াশোনার গন্তব্য হিসেবে কম বেছে নিচ্ছেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সরকার শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে দিয়েছে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে।
২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ৯.৭ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে চীনা শিক্ষার্থীদের আবেদন কমে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চাপের মুখে পড়ছে।
ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ (ELICOS) এবং ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (VET) খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি কোর্সে আবেদনকারীরা বাড়তি খরচ ও ভিসা অনিশ্চয়তার কারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এখন খরচ বেড়েছে এবং ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা কমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবারগুলো বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক পরিকল্পনা করে থাকে। কিন্তু ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হওয়ায় তারা দ্বিধায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত বড় সংকটে পড়বে। নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের জায়গা পূরণ করতে পারছে না। ফলে আগামী কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা আরো কমতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাড়তি খরচ, কঠোর নীতি ও ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণে এ খাতের প্রবৃদ্ধি এখন হুমকির মুখে। বিশেষ করে চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
logo-1-1740906910.png)