নিউজিল্যান্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে স্বল্পমেয়াদি গ্র্যাজুয়েট কর্ম ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এই ভিসা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষা-পরবর্তী ভিসার যোগ্যতাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করা।
নতুন ভিসার আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ছয় মাসের ওপেন ওয়ার্ক রাইটস পাবেন। এতে তারা চাকরি খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং পরে প্রয়োজনে নিয়োগকর্তা-স্পন্সরড ওয়ার্ক ভিসায় যেতে পারবেন। এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস অ্যান্ড ক্রেডেনশিয়ালস ফ্রেমওয়ার্ক (NZQCF)-এর লেভেল ৫ থেকে ৭-এর কোনো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
আবেদনের জন্য কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অন্তত ২৪ সপ্তাহ পূর্ণকালীনভাবে নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করতে হবে। ইংরেজি ভাষা, ফাউন্ডেশন বা ব্রিজিং প্রোগ্রাম গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদনকারীর কাছে অন্তত ৫ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার থাকার প্রমাণ থাকতে হবে এবং স্টুডেন্ট ভিসা শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
এই ভিসাধারীরা চাকরির চুক্তি বা সেবাচুক্তির ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন। তবে তারা নিজস্ব ব্যবসা চালু করতে পারবেন না এবং সঙ্গী বা সন্তানদের জন্য কাজ বা স্টাডি ভিসা স্পন্সর করার সুযোগও থাকবে না।
একই সঙ্গে সরকার বিদ্যমান পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতাও বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ থেকে যারা এনজেডকিউসিএফ লেভেল ৭-এর গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করবেন, তারাও এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন, যদি তাদের একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকে। ব্যাচেলর ডিগ্রি নিউজিল্যান্ড বা বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত হতে পারে। আবেদনকারীদের ডিপ্লোমা কোর্সের পুরো সময় নিউজিল্যান্ডে সম্পন্ন করতে হবে এবং ব্যাচেলর ডিগ্রির সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে আলাদা আন্তর্জাতিক যোগ্যতা মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে না, তবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে ডিগ্রির সত্যতা যাচাই করতে পারবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকালে শুধু একবারই শিক্ষা-পরবর্তী ভিসা পাবেন, এমনকি পরে একই বা উচ্চতর স্তরের আরেকটি ডিগ্রি সম্পন্ন করলেও। তবে অভিবাসন নীতিমালা পূরণ করলে তারা সঙ্গী ও নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য ভিজিটর, ওয়ার্ক বা স্টুডেন্ট ভিসা স্পন্সর করতে পারবেন।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই পরিবর্তনগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগ আরো শক্তিশালী করবে এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
logo-1-1740906910.png)