উচ্চশিক্ষায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের শীর্ষ গন্তব্য তুরস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩
তুরস্ক এখন মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে, যার সুফল এখন স্পষ্ট। ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের পাশাপাশি শিক্ষার মান, ভৌগোলিক নিকটতা এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীরা তুরস্ককে বেছে নিচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার আজকা মৌওলা ইসকান্দার মুদা বর্তমানে ইস্তাম্বুলের কোচ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করছেন। তিনি জানান, ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও আংকারার মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি বেছে নিয়েছিলেন গবেষণার সুবিধার কারণে। তার মতে, একই খরচে তুরস্কে গবেষণার সুযোগ অনেক বেশি।
তুরস্কে ইন্দোনেশিয়ান শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত এক দশকে ৬৫৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ জনে। পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সংখ্যা চার গুণ বেড়ে ৬ হাজার ৭৫ ছাড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত ১০ বছরে ২৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা রেকর্ড ৩ লাখ ৭৯ হাজারে পৌঁছেছে।
২০১৩ সালে তুরস্কে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার ছিল মাত্র ০.৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫ শতাংশে। তুরস্কের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা দ্বিগুণ করা।
তুরস্কের উচ্চশিক্ষা পরিষদের সভাপতি এরল ওজভার জানিয়েছেন, বিদেশি শিক্ষার্থী টানার প্রতিযোগিতায় তুরস্ক এখন মালয়েশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমানতালে চলছে। বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীর ৮০ শতাংশই মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে আসে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং ১৪ শতাংশ আফ্রিকা থেকে।
টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে তুরস্কের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৫০০–এর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে কোচ ইউনিভার্সিটি, মেটু এবং সাবাঞ্জি ইউনিভার্সিটি উল্লেখযোগ্য। শীর্ষ ১০০০-এর তালিকায় তুরস্কের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে তুর্কমেনিস্তান শীর্ষে রয়েছে ৬৫ হাজার ৮৮৪ জন নিয়ে, যা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ১৭ শতাংশ। এরপর সিরিয়া, আজারবাইজান, ইরান, উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
তুরস্ক ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখন তুরস্কে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের ৯৫ শতাংশ ব্যয় নিজেরাই বহন করেন এবং তারা বছরে তুরস্কের অর্থনীতিতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখেন।
তবে কিছু শিক্ষাবিশেষজ্ঞ ভর্তি মান কমিয়ে বেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ফি-নির্ভর আকর্ষণের পাশাপাশি ভর্তি মানোন্নত করা গেলে শিক্ষার মানও বাড়বে।
বর্তমানে তুরস্কে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ তুর্কি ভাষায় পড়ানো প্রোগ্রামে ভর্তি হন। বাকিরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেন। সরকার ইংরেজি কারিকুলামে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়াতে চায়।
logo-1-1740906910.png)