অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় চিন্তা হলো পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ। দেশটির সরকার এ বিষয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে, যা শিক্ষাজীবন থেকে পেশাজীবনে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ আসে সাময়িক স্নাতক ভিসা (Temporary Graduate Visa) এর মাধ্যমে। এই ভিসা আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের পড়াশোনা শেষ করার পর দেশটিতে থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে তারা পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত বা অন্য যে কোনো পেশায় কাজ করে অস্ট্রেলিয়ান কর্ম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের পথও খুলে যায়।
এই ভিসার দুটি প্রধান ধারা রয়েছে।
প্রথমটি হলো Post-Higher Education Work Stream, যেখানে ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা পিএইচডি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।
দ্বিতীয়টি হলো Post-Vocational Education Work Stream, যা ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (VET) বা ট্রেড কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
যোগ্যতার স্তরের ওপর নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ নির্ধারিত হয়। স্নাতক ও কোর্স-ভিত্তিক মাস্টার্স স্নাতকদের জন্য সাধারণত ২ বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। গবেষণা-ভিত্তিক মাস্টার্স বা ডক্টরেট স্নাতকদের জন্য মেয়াদ হতে পারে ৩ বছর। আর VET স্ট্রিমে সাধারণত ১৮ মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ থাকে।
আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ৩৫ বছরের নিচে। কোর্স শেষ করার ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। পড়াশোনা অবশ্যই CRICOS নিবন্ধিত কোর্সে অন্তত দুই একাডেমিক বছর হতে হবে। ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে আইএলটিএস, টোয়েফেল বা পিটিআই পরীক্ষার মাধ্যমে। এছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।
সাময়িক স্নাতক ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স পরিচালিত ইমিঅ্যাকাউন্ট পোর্টাল এর মাধ্যমে। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
এই ভিসা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটরা পূর্ণ কাজের অধিকার পান। উচ্চশিক্ষা স্ট্রিমে যেকোনো খাতে, যেকোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজ করা যায়, স্পন্সরশিপ ছাড়াই। VET গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে কাজ সাধারণত পড়াশোনার ক্ষেত্র বা সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়।
logo-1-1740906910.png)