পিএইচডি ডিগ্রির সংকট: মর্যাদা কমছে, সুযোগও সীমিত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯
বিশ্বজুড়ে পিএইচডি ডিগ্রির গুরুত্ব ও আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। ব্রিটিশ জনপ্রিয় দৈনিক ফোর্বসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ কমে যাওয়া, চাকরির বাজারে সীমিত সুযোগ এবং দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনার চাপের কারণে পিএইচডি এখন আর আগের মতো মর্যাদাপূর্ণ বা লাভজনক নয়।
আগে পিএইচডি ডিগ্রি ছিল একাডেমিক ও গবেষণা ক্যারিয়ারের প্রধান পথ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী শিক্ষকতার সুযোগ পাওয়া যেত এবং গবেষণা তহবিলও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তে তারা চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করছে। এর ফলে পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা প্রত্যাশিত ক্যারিয়ার পাচ্ছেন না।
গবেষণা তহবিলও সংকুচিত হচ্ছে। নতুন প্রকল্প শুরু করার সুযোগ কমে গেছে, ফলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতা সবসময় শিল্পে কাজে লাগছে না, ফলে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে।
পিএইচডি করতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও গবেষণা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায়। অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। আবার যারা শেষ করেন, তাদের জন্যও চাকরির নিশ্চয়তা নেই। ফলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পিএইচডি করার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ছেন।
অর্থনৈতিক চাপও বড় একটি কারণ। শিক্ষার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আর্থিকভাবে বিপদে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করার ফলে তারা চাকরির বাজারে দেরিতে প্রবেশ করছেন, যা তাদের আর্থিক অবস্থাকে আরো দুর্বল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিএইচডি ডিগ্রির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে গবেষণার প্রয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরির সুযোগ বাড়ানোর ওপর। যদি এসব ক্ষেত্রে উন্নতি না হয়, তবে পিএইচডি ডিগ্রি ধীরে ধীরে তার গুরুত্ব হারাবে।
logo-1-1740906910.png)