বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা পাওয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা উঠে আসে।
ইউরোপের বেশ কিছু দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের ভিসার জন্য ভারতে যেতে হয়। সেখানে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। স্লোভেনিয়ার মতো দেশে ভিসা পেতে তিনবার সাক্ষাৎকার দিতে হয়, যার মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। জার্মানির দূতাবাস ঢাকায় থাকলেও শিক্ষা ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে ২৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তির কারণে ভিসা জটিলতা বেড়েছে। তিনি বলেছেন, “আমাদের ঘর গোছাতে হবে।” জার্মানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অন্তত ৯ হাজার শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জার্মান দূতাবাস প্রতি বছর মাত্র ২ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আংশিক স্কলারশিপ পেলেও ভিসা না পাওয়ায় পড়াশোনা শুরু করতে পারছেন না। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত ৫০ শতাংশেরও কম বিদেশে পড়তে যেতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে নতুন ভিসা কমপ্লায়েন্স নীতি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার বেড়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার ছিল ২২ শতাংশ। ফলে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভর্তি স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, উলভারহ্যাম্পটন, ইস্ট লন্ডন, সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি, হার্টফোর্ডশায়ার এবং লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, অনেক শিক্ষার্থী ছাত্র ভিসায় গিয়ে কোর্স শেষ না করে আশ্রয়প্রার্থনা করছেন বা অন্য ক্যাটাগরিতে ভিসা পরিবর্তন করছেন। এ কারণে প্রকৃত শিক্ষার্থীদেরও ভর্তিতে বাধা তৈরি হচ্ছে। গ্লোবাল অ্যাডমিশনের কনসালট্যান্ট মো. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচিত, ছাত্র ভিসাকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার না করে সঠিকভাবে পড়াশোনা সম্পন্ন করা।
logo-1-1740906910.png)