মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৫
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কূটনীতি, বাণিজ্য আর বিনিয়োগের বাইরে এই সম্পর্ক দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ড। এই গভীর সম্পর্কের মাঝেই হতাশায় ভুগছেন মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নেওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। সময় টিভি এ নিয়ে প্রচার করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
২০২৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ বা সামাজিক ভ্রমণ পাস চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এই পাসের মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা এক বছর দেশটিতে অবস্থান করে বৈধভাবে চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। বর্তমানে বিশ্বের ৩২টি দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পেলেও তালিকায় নেই বাংলাদেশের নাম।
ফলে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেও সেখানে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শ্রমবাজারে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিদের এই সুবিধার আওতায় আনার গুঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করায় হতাশা আরো বেড়েছে। অথচ প্রতিবেশী অনেক এশীয় দেশ সহজেই এই সুযোগ পাচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়ার কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক ব্যবসা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী, কূটনীতিতেও সহযোগিতাপূর্ণ। তার মতে, এই সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা ও মানবিক ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েট পাস কোনো বিশেষ সুবিধা নয়। এটি সম্মান ও আত্মবিশ্বাসের বিষয়, পাশাপাশি দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব গড়ার একটি সুযোগ।’
গ্র্যাজুয়েট পাস পেতে হলে অন্তত স্নাতক ডিগ্রি এবং একজন মালয়েশিয়ান স্পন্সর প্রয়োজন হয়। এই সুবিধা পেলে শিক্ষার্থীরা এক বছর সপরিবারে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন এবং খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পান।
অভিবাসন ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা যেমন রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তেমনি বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও দেশের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। জাতীয়তার ভিত্তিতে এই ধরনের বৈষম্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও গ্র্যাজুয়েট পাস ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হলে এই বঞ্চনা দূর হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত বাংলাদেশিদের এই সুবিধার আওতায় এনে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা হোক।
logo-1-1740906910.png)