Logo
×

Follow Us

এশিয়া

চীনে বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৩

চীনে বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা

“জ্ঞান অর্জন করো, প্রয়োজনে চীনেও যাও”- এই প্রবাদ এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। চীনা রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করছে। অথচ ইউনেস্কো ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে চীনকে শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে দেখানো হয়নি।  

চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটিতে প্রায় ৪.৯ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সংখ্যা বেশি, তবু চীনের উত্থান বৈশ্বিক শিক্ষা মানচিত্রে নতুন পরিবর্তন আনছে।  

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনে পড়াশোনার জন্য তিনটি প্রধান কারণে আকৃষ্ট হচ্ছেন:  

১. প্রযুক্তি ও গবেষণায় অগ্রগতি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ফার্মেসি ও লজিস্টিকস; এসব খাতে চীন এগিয়ে আছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

২. বৃত্তি ও অর্থায়ন: চীনা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পূর্ণ বৃত্তি দিচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পার্ট-টাইম কাজ করতে হয় না, ফলে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেও সহজে পড়াশোনা সম্ভব।  

৩. ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য: চীন বাংলাদেশের কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াত সহজ। পাশাপাশি হালাল খাবার, আবহাওয়া ও সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

তবে কিছু সমস্যা রয়েছে। চীনা ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় VPN ব্যবহার করতে হয়, কারণ চীনের নিজস্ব ডিজিটাল সিস্টেম রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের চাকরির বাজারে চীনা ডিগ্রির স্বীকৃতি এখনো স্পষ্ট নয়।  

চীনে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে অবদান রাখতে পারবেন। কেউ চীনে থেকে কাজ করতে চান, কেউ পশ্চিমা দেশে যেতে চান, আবার কেউ বাংলাদেশে ফিরে উদ্যোক্তা হতে চান। এটি শুধু ব্রেইন ড্রেইন নয়, বরং ব্রেইন গেইন, যেখানে দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  

বাংলাদেশের শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের উচিত চীনা ডিগ্রির স্বীকৃতি ও পুনঃএকীভূতকরণের ব্যবস্থা করা। ইউজিসি ডিগ্রি সমমান নির্ধারণ, যৌথ গবেষণা ও দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করতে পারে। এতে চীন-শিক্ষিত তরুণরা দেশের উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন। 

Logo