Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ; বাংলাদেশের ঝুঁকি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮

লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ; বাংলাদেশের ঝুঁকি

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানি ও রপ্তানির বড় অংশ বাব আল-মানদেব প্রণালী হয়ে আসে। কিন্তু ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রণে এ পথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জন্য সৌদি আরব থেকে আসা একটি ট্যাংকার নিরাপত্তাজনিত কারণে বাব আল-মানদেব এড়িয়ে সুয়েজ খাল হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এতে সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। সাধারণত এ পথ দিয়ে এলে ১৬ দিনেই পৌঁছানো সম্ভব। ঘুর পথে আসায় একটি ট্যাংকারে প্রায় ৪০ লাখ ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে।

হুতিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও কৌশলগত মাইয়ুন দ্বীপ দখল করেছে। এর ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। তারা দাবি করছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ নিরাপদ। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সৌদি আরব, মিসর, মরক্কো, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এসব দেশ থেকে আমদানি হয়েছে ১০.৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। সব মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৩৯ শতাংশ বাব আল-মানদেব ও সুয়েজ খালের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগ জ্বালানি আমদানি। হরমুজ প্রণালী ইতোমধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে তেল পাঠাচ্ছিল। কিন্তু হুতিদের নিয়ন্ত্রণে এ পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে তেল, এলএনজি, এলপিজি ও সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে বাব আল-মানদেব এড়িয়ে গেলে উত্তমাশা অন্তরিপ ঘুরতে হয়। এতে সময় বাড়ে ১০-১২ দিন। জাহাজের জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। বিদেশি ক্রেতারা বাড়তি ভাড়া বহন করলেও শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে রপ্তানিকারকদের ওপর। এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যায়।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, রপ্তানিতে পরোক্ষ প্রভাব বেশি হবে। তুরস্ক থেকে পোশাকের কাঁচামাল ও আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানিতে বিলম্ব হলে উৎপাদন ও রপ্তানি সময়সূচি ব্যাহত হবে। এতে পোশাক শিল্পে চাপ বাড়বে।

বাংলাদেশ আগে থেকেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ পড়ছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে। জ্বালানি আমদানিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তিনি বলেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

Logo