পেপাল-পেওনিয়ার চালুর পথ সুগম করল বাংলাদেশ ব্যাংক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেনকে সহজ ও নিরাপদ করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন স্থানীয় ব্যাংকগুলো পেপাল, পেওনিয়ার কিংবা স্ট্রাইপের মতো বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি রপ্তানিকারকদের।
২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বা আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স প্রসেস করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব করতে পারবে।
নতুন কাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গ্রাহকদের নামে ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) খোলার সুযোগ। এটি হবে ব্যাংক-নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে প্রতিটি হিসাব একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিয়েল টাইম মনিটরিং ও সমান্তরাল খতিয়ান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকরা এই ডিভিএ ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, সরকারি বা দাপ্তরিক কাজে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সদস্যপদ বা সাবস্ক্রিপশন ফি, ই-ভিসা প্রসেসিং ফি, বিদেশে হোটেল বুকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবার বিল পরিশোধের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সীমার মধ্যে অনলাইন কেনাকাটা ও ফি পরিশোধও করা যাবে।
এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবধারীরাও এই সুবিধা পাবেন। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন কর্মকর্তা ব্যবসায়িক খরচের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের অর্জিত অর্থ সহজেই দেশে ফেরত আনতে পারবেন।
বাংলাদেশে আগত বিদেশি পর্যটক বা অ-নিবাসীরাও স্থানীয় দোকানপাটে এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে ব্যাংকগুলোকে সেবা চালুর আগে তাদের কারিগরি পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা কাঠামো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও গ্রাহক যাচাই নীতি মেনে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার ও সফটওয়্যার রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজে করতে পারবেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পেমেন্ট জায়ান্টগুলো বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।
logo-1-1740906910.png)