Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

পানিসংকট মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টি প্রযুক্তির উন্নয়ন আমিরাতে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০

পানিসংকট মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টি প্রযুক্তির উন্নয়ন আমিরাতে

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পানিসংকট মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টি বা ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র ঘোষণা করেছে, তিনটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আগামী তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির তিন বিজ্ঞানী এই অর্থ পাবেন এবং তাদের গবেষণা ইউএইতে কৃত্রিম বৃষ্টির কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।  

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ইকো সায়েন্স ওয়ার্কসের বিজ্ঞানী ডিক্সন মাইকেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত রাডার ব্যবহার করে মেঘে রাসায়নিক ছিটানোর পর কী ঘটে তা বিশ্লেষণ করবেন। তার গবেষণা অনুমানভিত্তিক নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর তা নির্ধারণ করবে।  

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিন্ডা জোয়ু ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধরনের ক্লাউড সিডিং উপকরণ তৈরি করছেন। তার দল এমন উন্নত কণা তৈরি করবে, যা মেঘে বরফের স্ফটিক তৈরি করতে বর্তমান উপকরণের তুলনায় বেশি কার্যকর হবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণাগুলোকে আরো উন্নত করা হবে। তিনি আবুধাবির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক সরঞ্জাম স্থাপন করবেন এবং স্থানীয় বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।  

সবচেয়ে ব্যতিক্রমী প্রকল্পটি পেয়েছেন জার্মানির হোহেনহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অলিভার ব্রাঞ্চ। তিনি মেঘে রাসায়নিক ছিটানোর বদলে ভূমির গঠন পরিবর্তন করে প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টি আনার সম্ভাবনা খুঁজবেন। তার গবেষণা সফল হলে এটি কৃত্রিম বৃষ্টির মতো অস্থায়ী সমাধানের বাইরে স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।  

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউএই রিসার্চ প্রোগ্রাম ফর রেইন ইনহ্যান্সমেন্ট সায়েন্স গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করেছিল। ৪৮টি দেশ থেকে ১৪০টি প্রস্তাব জমা পড়ে, সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে তিনটি প্রকল্প নির্বাচিত হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও ইউএই জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান আবদুল্লাহ আল মানদুস বলেছেন, এই উদ্যোগ বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে সহায়তা করার প্রতিফলন। বিজয়ীরা শুধু অর্থই পাবেন না, তারা বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন এবং ইউএইর গবেষণা ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন।  

প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টি হওয়ার জন্য মেঘের ভেতরে থাকা ছোট জলকণাগুলোকে বড় হতে হয়। রাসায়নিক বা কৃত্রিম কণার মাধ্যমে জলকণাগুলো বড় করা হলে মেঘে জমে থাকা পানি বৃষ্টি বা তুষারে পরিণত হয়। বর্তমানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ায়ও কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Logo