মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা: ৫১ মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৩
মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দেশের ৫১টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)। এসব অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটের ‘অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টার’ বিভাগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়। এর আগে মালয়েশিয়াগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে মাত্র ১৭টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা দেয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, এর আগের ১৭টি মেডিকেল সেন্টারের সীমিত পরিসরের কারণে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে ৫১টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করায় মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ তালিকা প্রকাশের ফলে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত কেন্দ্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একইসাথে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর ঝুঁকিও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে। এর আগে কোনো মেডিকেল পরীক্ষা করানো যাবে না।
তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী বলেছিলেন, নতুন তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে।
ঢাকায় যেসব মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে:
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। মতিঝিলের এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস ও রামিন হেলথ সেন্টার তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া ফকিরাপুলের ওয়াদি হেলথ চেকআপ, মেডিফ্লাই হেলথ সার্ভিসেস, পুরানা পল্টনের ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিটি মেডিকেল চেকআপ সেন্টার, এ এফ মেডিকেল সেন্টার এবং স্টার মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অনুমোদন পেয়েছে।
নয়াপল্টনের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক, সানলাইট ডায়াগনস্টিক, রিলায়েন্স ল্যাব, প্রাইম ডায়াগনস্টিক, হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার ও ওয়ান প্লাস মেডিকেল সেন্টারও তালিকায় রয়েছে।
বিজয়নগরের পারফেক্ট মেডিকেয়ার, কমফোর্ট মেডিকেল চেকআপ সেন্টার এবং পুরানা পল্টনের আনাস মেডিকেল সেন্টার লিমিটেড ও আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাবে।
রামপুরা, বনশ্রী ও বাড্ডা এলাকার কেন্দ্র:
বনশ্রীর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, রামপুরার লিডিং হেলথ চেকআপ লিমিটেড ও ডায়নামিক ল্যাব এবং পশ্চিম রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ার তালিকাভুক্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে পশ্চিম রামপুরার পিওর হেলথ মেডিকেল সেন্টার, উত্তর বাড্ডার ল্যাব কোয়েস্ট লিমিটেড এবং মাদানি অ্যাভিনিউয়ের স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সেন্টারও অনুমোদিত কেন্দ্র হিসেবে জায়গা পেয়েছে।
বনানী, উত্তরা ও গাজীপুরের কেন্দ্র:
বনানীতে গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সারা মেডিকেল সেন্টার ও সারা হেলথ কেয়ার রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া কাকলীর পুষ্প ক্লিনিক, চেয়ারম্যান বাড়ির এলবি হেলথকেয়ার ও সানমুন মেডিকেল সেন্টার এবং প্রগতি সরণির ইনডেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে।
উত্তরার দক্ষিণখানে জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস, সেক্টর-৪-এর মাইল্যাব মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহপুরের আইচি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে। গাজীপুরের শাহিদা খাতুন ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টারও তালিকায় রয়েছে।
অন্যান্য এলাকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার:
ধানমন্ডির গ্রিন রোডে ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক, ক্যান্টনমেন্টের মানিকদীতে ইশতিয়াক মেডিকেল সেন্টার, মাটিকাটায় মেডিপ্যাথ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কাফরুলের স্মার্ট মেডিকেল সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে।
এছাড়া নিউ ইস্কাটনের ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, মগবাজারের গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, কাকরাইলের কেয়ার ওয়েভ, মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল এবং তেজগাঁওয়ের জারা হেলথ কেয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তেজগাঁও বিমানবন্দর সড়কের এভারগ্রিন মেডিকেল সেন্টার এবং কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ওয়ার্ল্ড হরাইজন মেডিকেল সার্ভিসেসও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক:
এফডব্লিউসিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলো স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিবন্ধন পেয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডির প্রয়োজনীয় অডিট প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য যেতে আগ্রহী কর্মীদের ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্স (ই-ভিডিআর) আবেদনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।
এদিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং মেডিকেল অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা। এমন পরিস্থিতিতে ৫১টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আগে এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও ঠিকানা যাচাই করে নেয়া প্রয়োজন।
logo-1-1740906910.png)