লাগেজ চুরি ঠেকাতে বদলে গেছে শাহজালাল বিমানবন্দর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, মালামাল চুরি ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ কমাতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নতুন এই ব্যবস্থায় লাগেজ নামানো থেকে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন যাত্রীরা। ফলে প্রবাসী ও অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে সন্তোষ বাড়ছে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরজুড়ে আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে। এসব মনিটরে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, পরিবহন, বাছাই এবং বেল্টে পৌঁছানোর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
প্রবাসী যাত্রীদের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থার ফলে লাগেজ কোথায় আছে, সেটি সহজেই দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে লাগেজ পেতেও আগের তুলনায় অনেক কম সময় লাগছে। এতে লাগেজ হারানো বা কেটে মালামাল চুরির আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।
ডিআর কঙ্গো থেকে দেশে ফেরা এক প্রবাসী জানান, ইমিগ্রেশন শেষ করে বেল্টে পৌঁছানোর পরই তিনি নিজের লাগেজ দেখতে পেয়েছেন। তার মতে, আগে এমন দ্রুত সেবা পাওয়া যেত না। মনিটরের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া দেখা যাওয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে।
ওমরাহ থেকে ফেরা কয়েকজন যাত্রীও জানান, চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তারা লাগেজ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তাদের মতে, ক্যামেরা নজরদারির কারণে কেউ আর সহজে লাগেজে হাত দিতে বা ক্ষতি করতে পারবে না।
বেবিচক জানিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর থেকে এই লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটি উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর গঠিত একটি তদন্ত কমিটির সুপারিশের অংশ। কমিটি লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করেছিল।
সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল পুরো লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা, সিসিটিভির আওতা বৃদ্ধি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বডি-ক্যামেরা ব্যবহার এবং ফুটেজ সংরক্ষণ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে লাগেজ কাটার অভিযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রাপথের অন্য বিমানবন্দরে লাগেজ খোলা বা কাটা হলেও যাত্রীরা শেষ গন্তব্যে এসে অভিযোগ করতেন। এখন পুরো প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হওয়ায় বিভ্রান্তির সুযোগও কমে গেছে।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, যাত্রীরা এখন নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন তাদের লাগেজ কোথায় আছে এবং কত দ্রুত বেল্টে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরের প্রতি যাত্রীদের আস্থা বাড়ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা লাগেজ চুরি, কাটাকাটি ও হয়রানি রোধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
logo-1-1740906910.png)