বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে মালয়েশিয়ার পর্যটন আকর্ষণ আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে এবং ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬-২০২৭’ (ভিএম২০২৬-২০২৭) প্রচারণাকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমী, ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়া জানিয়েছে, বিটিটিএফ ২০২৬ তাদের জন্য বাংলাদেশি বাজারে মালয়েশিয়ার ব্র্যান্ড উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে দেশটির পর্যটন খাতের সর্বশেষ পণ্য, গন্তব্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
মেলায় মালয়েশিয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, সমুদ্রসৈকত, প্রকৃতি ও ইকো-ট্যুরিজম, চিকিৎসা পর্যটন, কেনাকাটা, খাদ্যসংস্কৃতি, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন (মাইস) খাতসহ বিভিন্ন পর্যটন তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
পর্যটন খাতের অংশীদারদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ট্যুরিজম মালয়েশিয়া ঢাকার পর্যটন খাতের শীর্ষ ৪০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করছে। এতে মালয়েশিয়ার নতুন পর্যটন আকর্ষণ, বাজার প্রবণতা এবং যৌথভাবে ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়ার মুসলিমবান্ধব পর্যটন সুবিধা তুলে ধরতে মেলায় অংশ নিয়েছে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি)। প্রতিষ্ঠানটি হালাল পর্যটনসেবা এবং মুসলিমবান্ধব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছে।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন বাজার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অবকাশযাপন, চিকিৎসা পর্যটন, ব্যবসায়িক সফর, কেনাকাটা এবং মাইস খাতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগ্রহ মালয়েশিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪১৭ জন ভ্রমণকারী মালয়েশিয়া সফর করেছেন। একই সময়ে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ১০ হাজার ৮৬টি আসন উপলব্ধ ছিল।
ট্যুরিজম মালয়েশিয়া আশা করছে, বিটিটিএফে অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের মধ্যে মালয়েশিয়া সম্পর্কে সচেতনতা আরো বাড়বে, নতুন পর্যটন প্যাকেজ তৈরি হবে এবং দুই দেশের পর্যটন খাতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬-২০২৭’ প্রচারণার লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা মিলবে।
logo-1-1740906910.png)