রেমিট্যান্সের প্রণোদনা দিতে গিয়ে দিশেহারা ব্যাংকগুলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫
প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রণোদনা দিতে গিয়ে দিশেহারা ব্যাংকগুলো। কারণ সরকার এই প্রণোদনার টাকা ব্যাংকগুলোকে ফেরত দিতে পারছে না। তাহলে কোন ব্যাংকের কত কোটি টাকা আটকেছে? এতে কীভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খাত?
সারা দুনিয়া থেকে প্রবাসীরা দেশে পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স, আর সেই রেমিট্যান্সের মূল টাকার সাথে আড়াই শতাংশ টাকা যুক্ত করে স্বজনদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো।
সরকারের নির্দেশনা মেনে, প্রণোদনার এই টাকা দিতে গিয়ে এখন মাছের কাঁটা গলায় আটকেছে ব্যাংকগুলোর। কথা ছিল সরকার এই টাকা ফেরত দেবে, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বাকির খাতা ফাঁকি।
বিভিন্ন ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে সেই বাকির খাতায়। কিন্তু প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রণোদনার সেই টাকা পরিশোধ করেই যেতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। আর তাই করতে গিয়ে এখন আর্থিক চাপে পড়ছে দেশের ব্যাংকগুলো। কিন্তু কোন ব্যাংকের কত টাকা আটকেছে?
ছোট একটা পরিসংখ্যান দিই। পরিসংখ্যান ছোট কিন্তু টাকার অঙ্কটা শত আর হাজার কোটি টাকার। যেমন রেমিট্যান্স প্রণোদনা খাতে ইসলামী ব্যাংকের আটকে আছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা, ব্র্যাংক ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা, ইবিএলের জমেছে আড়াইশ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংকের ৩৩৫ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংকের ২৫০ কোটি টাকা আর সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৭০ কোটি টাকা। কিন্তু সব মিলে কত টাকা আটকেছে?
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এ বছরের ৩০ আগস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের না দেওয়া ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্সের প্রণোদনা টাকা জমে পাহাড় হয়েছে। অঙ্কটা ৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। এই বিপুল টাকা ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে চেয়েও পাচ্ছে না। আগস্টের পর এখন চলছে অক্টোবরের শেষ। কিন্তু হা-হুতাশ কমেনি ব্যাংকগুলোর।
বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আমরা জেনেছি, প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর পর, এখন তারা প্রণোদনা দিচ্ছেন নিজেদের তহবিল থেকে। কিন্তু সরকার সেই অর্থ সময়মতো ফেরত দিচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের ওপর চাপ বাড়ছে। কিন্তু তাতে ব্যাংকগুলোর কোথায় লস হচ্ছে?
টাকা দিয়ে টাকা তোলাই ব্যাংকের কাজ। বিনিময়ে ব্যাংকগুলো লাভের মুখ দেখে, নতুন সম্ভাবনা খোঁজে। আটকে থাকা এই টাকা সরকারি ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ করলে সুদ আয় করা সম্ভব হতো। এখন একদিকে আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সুদ দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের কাছে পাওনা অর্থ থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। বলা যায় শামুক হয়ে গেছে ব্যাংকগুলোর শত আর হাজার কোটি টাকা। আর তাতে অনেক ব্যাংকের একপ্রকার দিশেহারা অবস্থা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এর প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত প্রবাসীদের ওপরও পড়তে পারে? এমন পরিস্থিতিতে কি প্রণোদনার বিষয়ে আস্থা হারাতে পারে ব্যাংকগুলো? আর তা হলে কী হুন্ডির কাছে হার মানবে প্রণোদনা?
ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে আস্থা কমলে কেউ কেউ হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক পথে ঝুঁকতে পারেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাহলে সমাধান কী?
ব্যাংকাররা বলছেন, আটকে থাকা অর্থ সরকারকে নিয়মিত ছাড় করতে হবে। রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনুযায়ী বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে আগাম অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির বড় শক্তি। তাই এই অর্থের বিপরীতে ঘোষিত প্রণোদনা সময়মতো পরিশোধ করা, শুধু ব্যাংকের স্বার্থে নয়, বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে, প্রবাসীদের উৎসাহ ধরে রাখার জন্যও জরুরি।
logo-1-1740906910.png)