হংকংসহ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগের নামে প্রতারণা ও মানব পাচারের ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকতে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়েমেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং (বিএমইটি)। এক সতর্কতামূলক প্রচারণায় বলা হয়েছে, অবৈধ উপায়ে হংকং বা অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা শুধু দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও।
প্রচারিত বার্তায় বলা হয়েছে, দালালচক্র অনেক সময় উচ্চ বেতনের গৃহকর্মী বা অন্যান্য চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে অনেককে অন্য দেশে পাচার করা হয় অথবা জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
সতর্কবার্তায় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে পাঠিয়ে সেখানে অবৈধভাবে কাজ করানোর চেষ্টা করা হয়। হংকংয়ে পৌঁছানোর পর এ ধরনের ব্যক্তিদের বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো, আটক হওয়া বা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈধ কর্মভিসা বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ছাড়া হংকংয়ে কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এমন অবস্থায় ধরা পড়লে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এছাড়া অবৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হলে শ্রমিকরা কোনো আইনি সুরক্ষা পান না। বেতন না পাওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কিংবা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও আইনি সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা হংকংগামী কর্মীদের শুধু সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। চাকরির অফার, ভিসার ধরন, নিয়োগপত্র এবং কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত সব নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের মতে, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে দালালের পরিবর্তে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। অবৈধ প্রস্তাব বা সন্দেহজনক নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)