Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিএমইটির পথচলা: কবে থেকে চালু হলো?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১

বিএমইটির পথচলা: কবে থেকে চালু হলো?

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও জনশক্তি উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। দেশের শ্রমবাজার, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাস ও ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ।

বিএমইটির সূচনা খুঁজে পাওয়া যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে। যুদ্ধ শেষে সেনাবাহিনীর অব্যাহতি পাওয়া সদস্যদের বেসামরিক পেশায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে ১৯৪২ সালে ঢাকায় সিয়াটো (SEATO) এবং কারিগরি সহায়তায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটি) নামে পরিচিত।

পরবর্তী সময়ে ১৯৪৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধফেরত সামরিক সদস্যদের পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া ও রাজশাহীতে কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়। পরে ঢাকাতেও একটি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৫ সালে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস (এনইএস) গঠন করা হলে কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনা আরো সুসংগঠিত হয়। একই বছরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কর্মসংস্থান সেবা কনভেনশন অনুসরণ করে চাকরি প্রার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিক সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

দেশে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে মেরিন ডিজেল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি) নামে পরিচিত। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে আরেকটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

ষাটের দশকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকলে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হয়। ১৯৬২-৬৩ সালে শ্রম পরিদপ্তরের নেতৃত্বে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় চারটি আঞ্চলিক এমপ্লয়মেন্ট অফিস চালু করা হয়। ১৯৬৫ সালে জার্মান সরকারের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরে উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে রাজশাহীতে পুরুষদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

স্বাধীনতার পর দেশের জনশক্তি উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন মাত্রা পায়। ১৯৭৬ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন অনুসরণ করে শ্রম অধিদপ্তরের ম্যানপাওয়ার উইংকে পৃথক করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি জনশক্তি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

১৯৮৯ সালে সরকারি প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে জনশক্তি উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় কাঠামো গড়ে তোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিএমইটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে শুরু করে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। এ প্রেক্ষাপটে ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। নতুন এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএমইটি দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং প্রবাসী কর্মীদের সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

বর্তমানে বিএমইটি শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের লাখো কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

Logo