Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফ্লাইটের কতক্ষণ আগে পৌঁছাবেন বিমানবন্দরে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০

ফ্লাইটের কতক্ষণ আগে পৌঁছাবেন বিমানবন্দরে?

বিমানযাত্রায় সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস বা ট্রেন মিস করলে বিকল্প ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ফ্লাইট মিস করলে গুনতে হতে পারে বড় ধরনের আর্থিক ও সময়গত ক্ষতি। তাই যাত্রীদের সব সময় ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শুধু বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপত্তা তল্লাশি, লাগেজ চেক-ইন, ইমিগ্রেশন, টার্মিনাল খুঁজে বের করা এবং বোর্ডিং গেটে পৌঁছানোসহ বেশ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব কারণে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে পৌঁছালে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক বিমানবন্দর এবং বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালাও রয়েছে, যেখানে যাত্রীদের কতক্ষণ আগে উপস্থিত হতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে।

উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের উড্ডয়নের তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেয়। আবার কিছু ব্যস্ত বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশেষ টাইম ট্র্যাকারও চালু রয়েছে, যাতে নিরাপত্তা চেক ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বা ডমেস্টিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ বিমান সংস্থা অন্তত এক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেয়। তবে বিমানবন্দরের ব্যস্ততা, ভ্রমণের মৌসুম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আরও আগে পৌঁছানো প্রয়োজন হতে পারে। অনেক এয়ারলাইন্স যাত্রীদের ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ডিপার্চার এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

পিক আওয়ার বা ব্যস্ত সময়ের ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি আরো বেশি। নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে দীর্ঘ লাইন, যানজট কিংবা চেক-ইন কাউন্টারে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সময় নষ্ট হতে পারে। তাই ব্যস্ত সময়ের ফ্লাইট হলে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পথে যানজট, দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতির কারণে দেরি হতে পারে। তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রওনা হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। আগেভাগে পৌঁছে গেলে বিমানবন্দরের দোকান, রেস্টুরেন্ট বা বইয়ের দোকানে সময় কাটানো সম্ভব, যা শেষ মুহূর্তের উদ্বেগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

সাধারণভাবে কম ব্যস্ত স্থানীয় বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে ডমেস্টিক ফ্লাইটের জন্য এক ঘণ্টা আগে এবং ব্যস্ত বা বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে পৌঁছানো উচিত। আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য সময় বলে বিবেচিত হয়। এতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয় ঝামেলামুক্ত এবং ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে কমে যায়।

Logo