আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফিরতে পারবেন কর্মীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে না পারা এবং এ সময়ের মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
২৬ অক্টোবর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রবেশ প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো একযোগে কাজ করলে দেশের জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরো সহজ হবে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেখানে তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরিফুল হক চৌধুরী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে। অভিবাসনের খরচ পরিশোধ করতেই যেন কর্মীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো জানান, বিদেশগামী কর্মীদের সেবা সহজ করতে এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ই-মেইল সেবা চালু ও এর প্রচার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক তার বক্তব্যে সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি অভিবাসন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করছেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরো জোরদার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
logo-1-1740906910.png)