চার দিনের সফরে জাপান গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে থাকা সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা এবং টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের প্রথম দিনেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো গভীর করা, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানো এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতা জোরদার করা।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সেখানে তিনি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।
সফরসূচিতে আরো রয়েছে জাইকা, জেবিআইসি, জেট্রো এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। পাশাপাশি জাপানের বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শনেরও কর্মসূচি রয়েছে।
প্রস্তাবিত আলোচনার অন্যতম বিষয় হচ্ছে ২০২৬-২০৩১ সময়কালের জন্য প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্যাকেজ। এতে পরিবহন অবকাঠামো, মাতারবাড়িকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, জ্বালানি, উৎপাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত গুরুত্ব পাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো আশা করছে, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)