Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মানব পাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন রোধে ইমামদের ভূমিকা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩

মানব পাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন রোধে ইমামদের ভূমিকা

মানব পাচার এবং সমুদ্রপথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বিদেশ যাত্রার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে দেশের সব মসজিদের ইমামদের জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী এই আহ্বান জানান।

অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীনে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, ইসলাম মানুষের জীবন সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে; সুতরাং মানব পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধ এবং অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা এবং তাদের জীবন বাঁচানো অত্যন্ত জরুরি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জুমার খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সময় বাংলাদেশিদের সলিল সমাধি হওয়া কিংবা পথে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি জানান, এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৪৯টি মসজিদের ইমামদের খুতবার মাধ্যমে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের কাছে নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় পন্ডিতেরা যদি মানব পাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তবে বহু তরুণের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, মো. আনিসুজ্জামান সিকদার, মো. আবদুল হামিদ খান, ওয়ালিউর রহমান খান এবং উপসচিব মো. গোলাম কবির। এছাড়া ন্যাশনাল ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার শায়লা শারমিন কর্মশালায় উপস্থিত থেকে মানবপাচার রোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন বিরোধী এই জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

Logo