অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি ও মানব পাচার নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজের অভিজ্ঞতা বহু মানুষের পেশাগত ও একাডেমিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) সাবেক গবেষক ও সহযোগীরা।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা হলে রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারা এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে কাজ শেখার সুযোগ সীমিত ছিল। কিন্তু রামরুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর নারী অভিবাসন, পরিবেশগত বাস্তুচ্যুতি, শরণার্থী এবং শ্রম অভিবাসন বিষয়ে সরাসরি মাঠে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।
তাদের মতে, মানুষের অভিজ্ঞতা শোনা, তথ্য সংগ্রহ, জরিপ পরিচালনা, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির মতো দক্ষতা বাস্তব কাজের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে।
একজন বক্তা স্মৃতিচারণ করে বলেন, গবেষণার কাজে গিয়ে কখনো কখনো পরিত্যক্ত বাড়ি পরিষ্কার করে সেটিকে বসবাস উপযোগী করতে হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব উদ্যোগে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, কাজের পরিকল্পনা তৈরি এবং দলগতভাবে সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বক্তারা আরো বলেন, রামরুর মাধ্যমে দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। যা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন ড. মো. মাহবুবুর রহমান, মাকফি ফারাহ, তানজিয়া আনজুম, শাহজাদা এম. আকরাম এবং তামিম বিল্লাহ। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান।
রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মিলনে অভিবাসন, শরণার্থী সংকট, বাস্তুচ্যুতি, মানব পাচার এবং অভিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নীতিগত আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)