সৌদিগামী কর্মীদের জন্য দক্ষতা পরীক্ষার খরচ বাড়ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩
সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। প্রতি বছর লাখো বাংলাদেশি কর্মী নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, লোডিং-আনলোডিংসহ বিভিন্ন খাতে কাজের জন্য দেশটিতে যান। কিন্তু এই শ্রমবাজারে প্রবেশের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব বিদেশি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা ‘তাকামুল’-এর ফি ৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫ ডলার করেছে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ফি বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
২০২২ সালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কর্মী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই। কারণ নিয়োগদাতারা কর্মীদের দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান। তবে প্রশ্ন উঠছে পরীক্ষার ধরন, খরচ এবং এর বাস্তব ফলাফল নিয়ে।
শুরুতে তাকামুল পরীক্ষা মূলত প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন ও অটোমোবাইল খাতের মতো কারিগরি পেশার জন্য চালু করা হয়েছিল। পরে তা সম্প্রসারণ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকসহ আরো ৭৩টি পেশার আওতায় আনা হয়।
সমালোচকদের মতে, কম্পিউটারভিত্তিক দক্ষতা পরীক্ষা একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সাধারণ শ্রমিকের দক্ষতা কতটা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আরো বড় প্রশ্ন হলো, এই সনদ পাওয়ার পর কর্মীদের বেতন বা চাকরির অবস্থার কোনো বাস্তব উন্নতি হচ্ছে কিনা।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে একজন বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা নির্মাণশ্রমিক মাসে সাধারণত ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। অন্যদিকে দেশটিতে যেতে একজন কর্মীর মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, ভিসা এবং দক্ষতা পরীক্ষার বাড়তি ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। ফলে কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ আরো বাড়ছে।
বিশেষ করে কেউ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে আবারো ৮৫ ডলার ফি দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়। এতে নিম্নআয়ের শ্রমিকদের জন্য বিদেশগমন আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ সরকার এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পুনঃপরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ার পরিবর্তে পরীক্ষার ফি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রমচুক্তিতে কর্মীদের লিখিত চাকরির প্রস্তাব, ডিজিটাল নিয়োগ প্রক্রিয়া, ব্যাংকিং চ্যানেলে বেতন প্রদান এবং অননুমোদিত কর্তনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন হলে কর্মীরা অন্তত নিয়োগসংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন। দক্ষতা স্বীকৃতির বিষয়েও নতুন আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সৌদি সরকারের কাছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) প্রদত্ত দক্ষতা সনদ সরাসরি স্বীকৃতির প্রস্তাব দিয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষতা সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের আলাদা করে সৌদির তাকামুল পরীক্ষা দিতে নাও হতে পারে। এতে কর্মীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)