বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে কুইক অ্যাকশন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, ট্রলি সংকট, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান।
অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
৭ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেন নওশাদ খান। বর্তমানে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর উপস্থিত সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়।
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা উন্নত করতে বর্তমানে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রলি ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর সহায়তায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করে মেরামতের মাধ্যমে নতুন করে প্রায় ৫০০টি ট্রলি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
ট্রলির অবস্থান ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। শিফটভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে কোন পয়েন্টে কতটি ট্রলি রয়েছে, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে রানওয়ে সংস্কার কাজের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল সীমিত থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করছে। ফলে কোনো কোনো সময়ে যাত্রীর সংখ্যা উপলব্ধ ট্রলির তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং ট্রলি পেতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। তবে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। তাদের সঙ্গে আসা-যাওয়া করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি।
এত বিপুল মানুষের চলাচলের কারণে নানা ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সে কারণেই নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
লাগেজ চুরি ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো যাত্রীর লাগেজে চুরির অভিযোগ থাকলে বা হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহে সাত দিন এবং দিনে ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগের তদন্তে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। লাগেজ চুরির ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)