বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ সম্প্রচারের দাবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরি ও লুটপাটের অভিযোগ বন্ধে নতুন উদ্যোগের দাবি উঠেছে। উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে যাত্রীদের সামনে সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
৪ অক্টোবর জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের কাছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার হলেও দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, পর্যটক, ব্যবসায়ী, বিদেশি কূটনীতিক এবং সাধারণ যাত্রীরা এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামিয়ে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ঘটনায় যাত্রীরা শুধু আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন না, মানসিক ভোগান্তিতেও পড়ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। কিছু ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা সিসিটিভির আওতার বাইরে থাকা এলাকা ব্যবহার করে অসাধু চক্র এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা অতিক্রম এবং ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুধু নজরদারি নয়, অ্যারাইভাল লাউঞ্জে বড় পর্দার মাধ্যমে সেই কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে যাত্রীরা নিজের লাগেজের গতিপথ সরাসরি দেখতে পারবেন বলে মনে করেন নোটিশদাতা।
এছাড়া কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থা যদি কোনো যাত্রীর লাগেজ খুলে পরীক্ষা করে, সেই প্রক্রিয়াও ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সামনে প্রদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বিমানবন্দরের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব পদে সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ খাতে সক্রিয় নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো কার্যক্রম লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া, প্রকাশ্য লাগেজ তল্লাশি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশদাতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সুরক্ষার লক্ষ্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে বিমানবন্দরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে যাত্রীসেবায় আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
logo-1-1740906910.png)