বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষকদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২
দেশের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের শুধু সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি নয়, তাদের ক্ষমতায়ন এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিধি আরো বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষা-প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো এবং পাঠদানের পদ্ধতি আরো আধুনিক করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তার মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়লে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও উপকৃত হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র আরো শক্তিশালী হবে।
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান শিল্প খাতের বাস্তব প্রয়োগে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শেখার আনন্দ, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব নতুন ক্ষেত্র চালু হলে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। মাহদী আমিন জানান, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রতিবছর মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার শতাধিক শিক্ষককে স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় তাদের আরো বেশি সম্পৃক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
logo-1-1740906910.png)