দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারো বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
৪ অক্টোবর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, এই ১০ হাজার কর্মীর মাধ্যমেই বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, কর্মী পাঠানোর আগে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করবেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই ১০ হাজার শ্রমিক থেকেই বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করাকেই এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে অনেক কর্মী পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে যাওয়ার ফলে কর্মস্থলে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
এ বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু কর্মী পাঠালেই হবে না, নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া কর্মী পাঠানো হলে বিদেশে গিয়ে তারা নানা ধরনের হয়রানি ও কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা কোন খাতে কত ধরনের কর্মী চান, তা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগদাতারা সরাসরি বাংলাদেশে এসে কর্মী বাছাই করবেন।
তিনি বলেন, কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর পাশাপাশি অনুমোদিত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে।
তবে এখনই কর্মী পাঠানো শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে চাহিদাপত্র, নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত এবং অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত খরচ আদায় এবং কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ ছিল। এসব কারণে কয়েক দফা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার আরো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তার মতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে অতীতের সমস্যাগুলো অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
logo-1-1740906910.png)