Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

৫ বছরে এক কোটি কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা এখনো অর্ধেকের মতো

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫

৫ বছরে এক কোটি কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা এখনো অর্ধেকের মতো

বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। কিন্তু এই লক্ষ্য পূরণের সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ।

তিনি বলেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করেছে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ), ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে।

সভায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রায় সাত লাখ প্রশিক্ষণার্থী এনএসডিএর সনদ পেয়েছেন। কিন্তু দেশের ভেতরে এই সনদের স্বীকৃতি সন্তোষজনক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে যদি স্বীকৃতি না থাকে, বিদেশে তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় সাত লাখ তরুণ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। একই সময়ে ১৮ লাখ তরুণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক উপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন।

দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ কর্মী আংশিক কর্মসংস্থানে আছেন। প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অনানুষ্ঠানিক খাতে। গবেষক উর্মি জাহান বলেছেন, শুধু প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা নয়, কী ধরনের দক্ষতা দেওয়া হচ্ছে এবং সেই দক্ষতার চাহিদা কোথায়— এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান বলেছেন, দক্ষতার অসামঞ্জস্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। এটি সামগ্রিক শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনার অংশ। তিনি মনে করিয়ে দেন, বছরের পর বছর বিনিয়োগের পরও বিদেশে কর্মসংস্থানের ৭০ শতাংশই স্বল্পদক্ষ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিএমইটির সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেছেন, কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বেড়েছে। ২০০৮ সালে তা ছিল এক শতাংশেরও কম, এখন ২০ শতাংশের বেশি। কিন্তু প্রশিক্ষণ এখনো শিল্প খাত ও গন্তব্য দেশের চাহিদার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সাকাওয়াত আলী বলেছেন, উন্নত শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা, শক্তিশালী ভাষা প্রশিক্ষণ এবং গন্তব্য দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রয়োজন। যাতে বিদেশে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ ও সনদ স্বীকৃতি পায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দেশে অটোমোবাইল টেকনিশিয়ানের চাহিদা থাকলে সেখানে নির্মাণকাজের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানো হলে অসামঞ্জস্য তৈরি হবে।

ইতালির অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জিউসেপ্পে দি জিওভান্নি বলেছেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইতালি বাংলাদেশিদের ২০ হাজারের বেশি কাজের ভিসা দিয়েছে। কিন্তু একই সময়ে প্রায় সমসংখ্যক বাংলাদেশি লিবিয়া হয়ে অনিয়মিত পথে ইতালিতে পৌঁছেছেন। সরকারি ফি মাত্র ৬৫ ইউরো হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে তারা কয়েক হাজার ডলার দিয়ে যাচ্ছেন।

ইইউর প্রতিনিধি লরা কার্তানিয়া লিয়াখ বলেছেন, ট্যালেন্ট পার্টনারশিপের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা এখনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিতভাবে যুক্ত হয়নি। ইইউ কারিগরি শিক্ষা সংস্কারে প্রায় ৮ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে।

Logo