Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জাতিসংঘ একা এই সংকট সমাধান করতে পারবে না। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের আরো সক্রিয় হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১.২ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

আইরিন খান বলেছেন, এখন তিনটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি। প্রথমত, শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া, কারণ দেশটি কঠিন সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তৃতীয়ত, সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।

জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো এ বছর মে মাসে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল চেয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জরুরি চাহিদা পূরণে এই অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় অর্থ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুদের ভবিষ্যৎ। ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে একটি প্রজন্ম। প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে শরণার্থী শিবিরে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপও একই তথ্য দিয়েছেন। আইরিন খান বলেছেন, এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরো জটিল হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ বারবার বলছে, সংকটের মূল উৎস মিয়ানমার। তাই সমাধানও মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বলেছেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

রোহিঙ্গারা নিজেরাও দেশে ফিরতে চান, তবে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হলে তবেই। এ জন্য বাংলাদেশ চাইছে জাতিসংঘ সব পক্ষকে আলোচনায় আনুক। এর মধ্যে থাকবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যারা মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রাখে বা অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে পারে।

আইরিন খান বলেছেন, মিয়ানমারকে রাজনৈতিকভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে।

জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেছেন, এই ধরনের সংকট জাতিসংঘ একা সমাধান করতে পারে না। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যকে আরও কার্যকরভাবে একসাথে কাজ করতে হবে।

Logo