অনলাইনে লোন অ্যাপের ফাঁদে বাংলাদেশিরা; সক্রিয় চীনা সিন্ডিকেট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র পাঁচ মিনিটে ঋণ পাওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপন। শর্ত নেই, জামানত নেই; শুধু মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করলেই ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এমন প্রলোভনে অনেকেই ‘পপক্যাশ’ বা ‘ফিনক্যাশ’ নামের অ্যাপে আবেদন করেছেন। কিন্তু ঋণ নেওয়ার পরই শুরু হয় প্রতারণার আসল খেলা।
কেউ যদি ৫ হাজার টাকা ঋণ নেন, শুরুতেই সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। সপ্তাহ পার না হতেই কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন আসে দ্বিগুণ টাকা পরিশোধের চাপ নিয়ে। টাকা দিতে দেরি হলে বা অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল। নিবন্ধনের সময় দেওয়া ছবি ব্যবহার করে ভুয়া নগ্ন ভিডিও বানিয়ে গ্রাহকদের হুমকি দেওয়া হয়।
ডিবির সাইবার ইউনিট সম্প্রতি রাজধানীর নতুনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন ননদ-ভাবি এবং অন্যজন প্রতিবেশী। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অ্যাপ মূলত চীন থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশে স্থানীয় এজেন্ট রয়েছে, যারা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নারীদের দিয়ে গ্রাহকদের ব্ল্যাকমেইল করত।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, টাকা না দিলে ছবি-ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি কন্টাক্ট লিস্টে থাকা আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে ভুক্তভোগীদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হতো। এতে মানসিক চাপ বাড়ত এবং শেষ পর্যন্ত অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হতেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ইতোমধ্যে অনুমোদনহীন অন্তত ৩১টি অ্যাপের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ একটি সাইট বন্ধ করলে রাতারাতি নতুন পাঁচটি সাইট চালু হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিএফআইইউ, বিটিআরসি ও সিআইডি তৎপর রয়েছে। তবে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। এ ধরনের অ্যাপে সম্পৃক্ত হলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সম্মানহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)