প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চান রোহিঙ্গারা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা আবারো তাদের দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি বা সহমর্মিতা নয়, এবার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, সময়ভিত্তিক এবং বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রয়োজন।
উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর শিবিরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ২০১৭ সালের পর প্রায় ৯ বছর ধরে তারা বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পেলেও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানেই করতে হবে। তবে ফেরার আগে নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিক মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারা বলেন, অতীতে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এবার যদি একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।
ইউসিআরের সভাপতি মৌলভী সৈয়দ উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিবিরে বসবাসের পর এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। অনির্দিষ্টকাল শিবিরে রেখে সংকটের সমাধান হবে না। রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মো. সোয়েব বলেন, তারা আলোচনা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন।
রোহিঙ্গা নারী নেত্রী সাজিদা বেগম বলেন, দীর্ঘ বাস্তুচ্যুত জীবনে নারীরা নানা সংকটে পড়েছেন। নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ না হলে সংকট আরো দীর্ঘায়িত হবে। বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, এজন্য কৃতজ্ঞ। তবে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও স্বজনদের কাছে ফিরতে চান।
রোহিঙ্গা নেতা মো. সালেহ বলেন, দীর্ঘদিন শিবিরে থাকার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ছে। তাই দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ জরুরি। আরেকজন নুর আলম বলেন, সংকট শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
logo-1-1740906910.png)