ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বিশ্বে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। শতাব্দীর শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে দেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বছরের বাজেটে অভিযোজনের জন্য ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যানও বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগে সবুজ শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার তৈরির কাজও চলছে।
তিনি বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান। প্রথমত, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে নিঃসরণ কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে। চতুর্থত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর জরুরি। সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীদার হবে।
logo-1-1740906910.png)