রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল এসেছে বারবার। ২০১৭ সালে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। শিবিরগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, ফলে বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
তিনি বলেন, মানবিকতার তাগিদে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিশুদের পড়ানো হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে। তবে শিবিরগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী নয়।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ বাড়ছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে। মানব পাচার, মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনসহ নানা আন্তঃদেশীয় অপরাধ বাড়ছে। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। এ সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার ঘাটতি উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালে তা কমে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এতে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। সেখানে এখনো রোহিঙ্গারা আটক, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে। সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি উভয়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তাই নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
তিনি আহ্বান জানান, এখন শুধু সহমর্মিতা নয়, সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগোতে হবে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যেতে হবে।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন। প্রথমত, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা দিতে হবে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। চতুর্থত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে হবে। পঞ্চমত, মানব পাচার, মাদক পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
logo-1-1740906910.png)