কলকাতায় হোটেল-গেস্টহাউসে কড়াকড়ি, বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২
কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশি রোগীরা এবার বড় বিপাকে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে প্রশাসনিক কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় অনেক অতিথিশালা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্বল্পবিত্ত রোগী ও তাদের স্বজনেরা থাকার জায়গা না পেয়ে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন।
নেত্রকোনার রফিকুলের অভিজ্ঞতা যেন দুঃস্বপ্ন। বড় ভাই সফিকুলের ক্যানসার ধরা পড়লে তাকে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। মেডিকেল ভিসা ও টাকার ব্যবস্থা করতে অনেক কষ্ট হয়। আগস্টের শেষে তারা মধ্য কলকাতার একটি গেস্টহাউসে ওঠেন। কিন্তু প্রথম রাতেই মালিক তাদের বের করে দেন। বাধ্য হয়ে রাতের বেলা ফুটপাতে প্লাস্টিকের চাদর বিছিয়ে রোগীকে শোয়াতে হয়।
শুধু মধ্য কলকাতা নয়, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের আশপাশে ডি’সান, মণিপাল, পিয়ারলেস, নারায়ণা আর এন টেগোরসহ বড় হাসপাতালগুলোর আশপাশেও একই চিত্র। অনেক গেস্টহাউস বন্ধ, আবার যেগুলো খোলা আছে সেগুলোতে ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
এর পেছনে কারণ মারকুইস স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। গত ১৯ আগস্টের সেই ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশিসহ ৯ জন মারা যান। তদন্তে দেখা যায়, হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল না। এরপরই কলকাতা পৌরসভা শহরজুড়ে অভিযান চালায়। ৯৬০টি হোটেল ও গেস্টহাউস পরিদর্শনের পর ৯১৯টির বিরুদ্ধে নির্দেশিকা জারি করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফলে পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড, সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিটের মতো এলাকায় ছোট বাজেটের হোটেলগুলোতে তালা ঝুলছে। অথচ এসব জায়গাই ছিল বাংলাদেশি রোগীদের ভরসার আশ্রয়। আলিপুরের মতো অভিজাত এলাকায় ভাড়া এত বেশি যে স্বল্পবিত্ত রোগীদের পক্ষে সেখানে থাকা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশি রোগীদের সংখ্যা গত কয়েক বছরে কমে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০২৪ সালের পর থেকে রোগীর ভিড় কমে যায়। পরে আবার কিছুটা বাড়লেও সাম্প্রতিক কড়াকড়ি সেই আশায় জল ঢেলেছে।
করপোরেট হাসপাতালগুলো এখন রোগীদের থাকার ব্যবস্থা করতে অনুমোদিত গেস্টহাউসের সঙ্গে চুক্তি করছে। উডল্যান্ডস হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া জানিয়েছেন, তারা রোগীদের নিরাপদ হোটেলের তালিকা পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পরামর্শ মেনে আগে থেকেই বুকিং করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তবে ছোট গেস্টহাউসের মালিকরা বলছেন, পুরোনো ভবনের নকশা ও কাগজপত্র জোগাড় করা কঠিন। ফলে অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, পৌর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক রফায় না গেলে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
এই কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে আশপাশের খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান, ফরেন এক্সচেঞ্জ কাউন্টার ও ট্রাভেল এজেন্টদের ওপরও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা কমে গেলে তাদের ব্যবসাও ধ্বংস হয়ে যাবে।
logo-1-1740906910.png)