Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) অভিযোগ করেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তারা বলছে, সময়মতো শ্রমিক পাঠাতে না পারলে মালয়েশিয়া সরকার অন্য দেশ থেকে কর্মী নেবে, আর বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় এই বাজার থেকে বঞ্চিত হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া লিখিত বক্তব্যে জানান, মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কর্মীদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু তালিকাভুক্ত নয় এমন কিছু এজেন্সি মিটিং-মিছিল ও মামলা করে প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা ভুয়া ডিমান্ড লেটার ব্যবহার করে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করেছে। এতে একজন কর্মী মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় দ্বিগুণ। ফলে সাধারণ কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী। তবে ২০২৪ সালের জুনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে আবার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সুযোগে নেপাল ও মিয়ানমার দ্রুত কর্মী পাঠিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সিদ্ধান্তহীনতা ও এজেন্সিগুলোর দ্বন্দ্বের কারণে পিছিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সময়মতো উদ্যোগ নিলে অন্তত এক লাখ কর্মী ইতিমধ্যেই যেতে পারতেন। পরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে ৪২৩টি বৈধ এজেন্সির তালিকা দিতে বলে। এর ভিত্তিতে বোয়েসেলসহ ২৬টি মূল এজেন্সি এবং সহযোগী ৩১২টি এজেন্সিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকার কর্মী নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরপর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নিয়োগ শুরু করতে তাগিদ দেয়। বর্তমানে অনলাইনে ই-অ্যাম্বাসি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলছে।

তবে বায়রা অভিযোগ করেছে, কিছু এজেন্সি আবার ভুল তথ্য দিয়ে আন্দোলন ও মানববন্ধন করছে। তারা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে বড় করে দেখছে। এতে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার আবারো বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও সংকটের কারণে কর্মসংস্থান কমে গেছে। তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বার্থে সব এজেন্সিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে মালয়েশিয়া অন্য দেশ থেকে কর্মী নেবে, আর বাংলাদেশ সুযোগ হারাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন আল আকাবা অ্যাসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন বায়রার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।


Logo