Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মানব পাচার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান স্বরাষ্ট্র সচিবের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯

মানব পাচার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান স্বরাষ্ট্র সচিবের

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, মানব পাচার রোধে শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। এর পেছনে থাকা বড় অপরাধীচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, অভিবাসী চোরাচালান একটি সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।

সিলেটে আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি বলেন, নতুন আইন ২০২৬-এ অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেককে অপরাধী ভাবা উচিত নয়। অনেকেই প্রতারণা বা শোষণের শিকার হন। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত ও সুরক্ষা দিতে হবে।

কর্মশালায় অভিবাসী চোরাচালান, ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি।

অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইংয়ের সানা মো. মাহরুফ হোসাইন আইনটির বিভিন্ন বিধান তুলে ধরেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলার ব্যবহারিক দিক ব্যাখ্যা করেন।

বক্তারা বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক অপরাধী চক্র প্রতারণামূলক নিয়োগ ও অবৈধ পথে পাঠানোর কাজ করছে। তাই শুধু পৃথক ঘটনা নয়, বরং নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক লেনদেন, দালাল ও সীমান্তপারের যোগসূত্র চিহ্নিত করতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, দালালদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া, ভিসা ও কাগজপত্র যাচাই এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও সহায়তা আরো শক্তিশালী করতে হবে।

Logo