মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো সিন্ডিকেটের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন ব্যবস্থায় আবারো সীমিত সংখ্যক এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তাদের দাবি, দেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে।
১৬ সেপ্টেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তারা বলেন, মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) ৩১২ সহযোগী এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে ২৫ এজেন্সির হাতে। ফলে বাকি এজেন্সিগুলো কার্যত কোনো সুফল পাবে না।
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা আবার সেই পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থার লক্ষণ দেখছি। মূল নিয়ন্ত্রক হবে ওই ২৫ এজেন্সি, আর বাকি ৩১২ এজেন্সিকে শুধু দেখানোর জন্য রাখা হয়েছে।”
তাদের অভিযোগ, কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জব অর্ডার, টিকিট ও ভিসার খরচ ছাড়াও সিন্ডিকেটের সদস্যদের অতিরিক্ত ৫ হাজার রিঙ্গিত দিতে হবে। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা, যা আগে ছিল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। যদিও এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অতীতে এফডব্লিউসিএমএসে কিছু এজেন্সি থাকলেও সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা সীমিত গোষ্ঠীর হাতে ছিল। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায় এবং বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়।
তারা দাবি করেন, সব বৈধ এজেন্সিকে নিজেদের লাইসেন্স ও চাহিদাপত্র অনুযায়ী সরাসরি কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিতে হবে। কমিশন, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে একচেটিয়া আধিপত্য দূর করে অনুমোদিত সব মেডিকেল সেন্টারকে সুযোগ দিতে হবে।
যদি প্রতিটি এজেন্সি সরাসরি সুযোগ না পায়, তবে সরকার পরিচালিত বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বায়রার এই অংশ। এতে সব এজেন্সি সমান শর্তে কর্মী পাঠাতে পারবে।
তারা বলেন, “আমরা শ্রমবাজার বন্ধ করতে চাই না। বরং চাই এটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বল্প খরচে উন্মুক্ত হোক, তবে আর কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়।”
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে ২৫টি এজেন্সিকে সরাসরি এবং ৩১২টিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়াকে অনিয়মে জড়িত এজেন্সিগুলো বাদ দিতে বলেছে।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত অভিবাসনে আগ্রহীদের কোনো টাকা না দিতে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করাতে বা পাসপোর্ট জমা না দিতে। মালয়েশিয়া বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রথম ধাপে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে।
বর্তমান চুক্তি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বায়রার একাংশ বলছে, শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে হলে সব এজেন্সিকে সমান সুযোগ দিতে হবে, নইলে আবারো সিন্ডিকেট তৈরি হবে।
logo-1-1740906910.png)